আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের আতঙ্কের মধ্যেই স্বস্তির খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কমল তেলের দাম!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরাজমান সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসতে পারে, এমন প্রত্যাশা থেকে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত দাম ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৯ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের ডিসেম্বরের সরবরাহমূল্য ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তেলের বাজারে এই দরপতনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে চলমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধান চান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নাকচ করছে না। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় টানা দুই দিন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা হলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ ভারতের মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫

তবে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হয়।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শনিবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

কূটনৈতিক আলোচনার খবরে তেলের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। তেলবাহী জাহাজ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগারে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা মনে করেন, চলমান হামলার ঘটনাগুলো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বাজারে আস্থা তৈরি করতে পারছে না। তবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দামেও।

তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয়ে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: সিএনবিসি

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button